একটি চমকপ্রদ ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে একজন ব্যক্তির পাকস্থলীর ক্যান্সার হয়েছে এবং তদন্তের সময় দেখা গেছে যে এর কারণ তার ফ্রিজে থাকা কিছু খাবার। এই ঘটনাটি আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে জিনিসগুলি ব্যবহার করি তা কি আমাদের জন্য বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে? আসুন জেনে নিই কোন পাঁচটি জিনিস এই মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে এবং কীভাবে আমরা এটি এড়াতে পারি।
ফ্রিজে রাখা খাবারের বিপদ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কিছু খাবার ফ্রিজে রাখলে কেবল তার পুষ্টিগুণই নষ্ট হয় না বরং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বৃদ্ধিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অণুজীবগুলি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে পাকস্থলীর ক্যান্সার সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
পাঁচটি বিপজ্জনক খাবার
১. কুঁচি করে কাটা পেঁয়াজ
কাটা পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখা সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়। এতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারও হতে পারে।
২. অবশিষ্ট ভাত
অবশিষ্ট ভাতে ব্যাসিলাস সেরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, যা রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রায়ও টিকে থাকতে পারে। এমনকি এটি গরম করে খেলেও এই ব্যাকটেরিয়াগুলি মারা যায় না এবং শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে।
৩. রান্না করা পালং শাক
পুনরায় গরম করলে, পালং শাকের নাইট্রেট নাইট্রাইটে পরিণত হয়, যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হতে পারে। তাই, রান্না করা পালং শাক ফ্রিজে রেখে পরে খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
৪. ভাজা খাবার
ভাজা খাবার ফ্রিজে রেখে আবার গরম করে খাওয়ার ফলে তাতে উপস্থিত তেল অক্সিডাইজ হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি ক্ষতিকারক মুক্ত র্যাডিকেলের জন্ম দেয় যা কোষের ক্ষতি করতে পারে।
৫. প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ এবং হ্যামের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে ইতিমধ্যেই অনেক প্রিজারভেটিভ থাকে। দীর্ঘক্ষণ ফ্রিজে রাখলে এতে আরও ক্ষতিকারক যৌগ তৈরি হতে পারে যা পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন?
পাকস্থলীর ক্যান্সার এড়াতে, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ:
তাজা খাবার খান: যতদূর সম্ভব তাজা রান্না করা খাবার খান।
রেফ্রিজারেটরের সময় সীমিত করুন: খাবার ২৪ ঘন্টার বেশি রেফ্রিজারেটরে রাখবেন না।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন: খাবার বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন।
কীভাবে পুনরায় গরম করবেন: খাবার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনরায় গরম করুন, কিন্তু বারবার পুনরায় গরম করবেন না।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করুন: তাজা ফল, শাকসবজি এবং গোটা শস্য গ্রহণের পরিমাণ বাড়ান।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ অনুপম সিং বলেন, "ফ্রিজে রাখা খাবারের কারণে ক্যান্সারের ঘটনা বাড়ছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার। তাজা এবং পুষ্টিকর খাবার হল সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।"
No comments:
Post a Comment