বায়ু দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে তা আপনার অবশ্যই জানা উচিত। এর ফলে ফুসফুস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তালিকাটি এখানেই শেষ হয় না। দীর্ঘমেয়াদী বায়ু দূষণের সংস্পর্শে থাকার ফলে আপনার মস্তিষ্কের, বিশেষ করে শিশুদের (Childhood Air Pollution Effects) বিরাট ক্ষতি হতে পারে।
শৈশবকাল থেকেই দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কিছু গবেষণায় এই সম্পর্কিত কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। শৈশবে দীর্ঘমেয়াদী বায়ু দূষণের সংস্পর্শে থাকার ফলে বড় হয়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সম্পর্কে আমাদের জানান।
এটি মস্তিষ্কের কীভাবে ক্ষতি করে?
বায়ু দূষণকারী পদার্থে ছোট ছোট কণা থাকে, যা সহজেই ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং রক্তে মিশে যায়। এই কণাগুলি মস্তিষ্কেও পৌঁছাতে পারে এবং সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। প্রদাহ মস্তিষ্কের কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং যুক্তি ক্ষমতা হ্রাস করে। এর ফলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বায়ু দূষণের কারণে, বাতাসে PM2.5 এবং নাইট্রোজেন অক্সাইডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এগুলো এত ছোট ছোট কণা যে ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যায়। এরা রক্তের মাধ্যমে শরীরের যেকোনো অংশে পৌঁছাতে পারে এবং ক্ষতি করতে পারে।
শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি কেন?
বিকাশমান মস্তিষ্ক - শিশুদের মস্তিষ্ক এখনও বিকাশমান এবং দূষণের কারণে বেশি প্রভাবিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শ - শৈশবে দূষণের দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শে থাকার ফলে মস্তিষ্কের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।
রক্ত-মস্তিষ্কের বাধা - শিশুদের মধ্যে রক্ত-মস্তিষ্কের বাধা সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয় না, যার কারণে দূষণকারী পদার্থ সহজেই মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে।
আমরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পারি?
দূষিত এলাকায় যাওয়ার সময় সর্বদা N-95 বা N-99 মাস্ক পরুন।
আপনার বাড়িতে একটি এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন। এই ডিভাইসগুলি বাতাসে উপস্থিত দূষণকারী পদার্থ অপসারণ করে বাতাস পরিষ্কার করে।
যদি দূষণ বেশি থাকে, তাহলে যতটা সম্ভব বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
ঘরের জানালা নিয়মিত খুলুন, যাতে তাজা বাতাস ভেতরে আসতে পারে।
ঘরে মোমবাতি, ধূপকাঠি ইত্যাদি জ্বালাবেন না।
ঘরের পর্দা এবং কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
ঘরের ভেতরে এবং আশেপাশে গাছ লাগান।
তাজা ফল এবং সবজি খান। এই খাবারগুলি আপনার শরীরকে দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
No comments:
Post a Comment